শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

বিশ্বাস করুন, সময়টা ঘোর আঁধার।

রিপোটারের নাম / ৮৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

ফারহানা নীলা। ফাইল ছবি


ফারহানা নীলা :


কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন, সামাজিক দূরত্ব, লক ডাউন…. খটমটে শব্দগুলোর সাথে আমরা কেউ এতটা পরিচিত ছিলাম না। হুট করেই এই শব্দগুলো এখন আমাদের সাথে জড়িয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের যাপিত জীবনে এই কথাগুলো ঘুরেফিরে আসছে।

সামাজিক দূরত্ব কথাটি হয়তো অনেকের কাছেই বোধগম্য হয়নি। আপাতদৃষ্টিতে সেটাই প্রতীয়মান।
আমরা বলছি সামাজিক দূরত্বে থাকুন।

যদি বলি একজনের থেকে অন্তত দুই হাত দূরে অথবা চার হাত দূরে থাকুন। যেখানেই দাঁড়াবেন, যেখানেই যাবেন… আপনার কাছাকাছি কেউ থাকবে না। আপনিও কারো কাছে ঘেঁষে থাকবেন না। নিতান্ত প্রয়োজন হলে বাইরে গেলে মনে রাখুন… দূরত্বের জন্য করোনাভাইরাস আপনার নাগাল পাবে না।
অসুস্থ ব্যক্তির সাথে অথবা সুস্থ ব্যক্তির সাথে… সবার সাথেই এই দূরত্ব রাখতে হবে।

এতে করে অন্য কারো ভাইরাস আপনাকে ছোঁবে না, আপনার ভাইরাস অন্য কাউকে ছোঁবে না (যদি কারো ভাইরাস থেকে থাকে)

তারমানে আপনি/আমি কেউ কিছু দিন কাছাকাছি অথবা পাশাপাশি থাকার কথা ভুলে যাবো।
কথা বলতে হলেও এই দূর থেকেই বলতে হবে।

হাট বাজারে গেলেও এই দূরে থেকেই কেনাকাটা করতে হবে। পথে হাঁটতে গেলেও এতটা দূরত্ব রেখে হাঁটতে হবে।

সামাজিক দূরত্ব… খটমটে শব্দটাকে এইভাবে যদি বুঝি আমরা তবে তো মেনে চলাই যায়!

কোয়ারেন্টাইন…

যদি কোনো করোনা আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে আসেন বা আপনার নিজেকে সন্দেহ হয় তবে নিজেকে বাড়ির সবার থেকে আলাদা করে ফেলুন।
আলাদা ঘরে আপনার ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে চৌদ্দ দিন আলাদা থাকুন। কেউ আপনার ঘরে আসবে না, আপনিও কারো ঘরে যাবেন না। আপনার খাওয়া দাওয়া দরজার সামনে দিয়ে দিলে আপনি দরজা খুলে সেগুলো ঘরে নিয়ে খাবার খান। বাসন কোসন নিজে পরিষ্কার করে রাখুন। ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া কাজগুলো নিজেই করুন। আপনার কোনো কিছুই এই চৌদ্দ দিন কেউ ধরবে না, ছোঁবে না।

যদি আপনি সুস্থ থাকেন তবে চৌদ্দ দিন পর পারিবারিক পরিমন্ডলে মিশতে পারবেন। স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না।

আইসোলেশন…

যদি আপনি কোভিড-১৯ রোগী হন অথবা কোনো উপসর্গ নেই আপনার কিন্তু পরীক্ষায় আপনি করোনা পজিটিভ। তখন চৌদ্দ দিন সম্পূর্ণভাবে নিজেকে আটকে ফেলুন নির্দিষ্ট ঘরে।

উপসর্গ থাকলে ওষুধ খান। যেমন জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল, কাশি সর্দি থাকলে এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ। প্রচুর পানি পান করুন। পুষ্টিকর খাবার খান। ভিটামিন সি, জিংক খান। নিজেকে আবদ্ধ রাখুন যাতে করে আপনার পরিবারের কেউ আক্রান্ত না হয়। এটা না করলে পুরো পরিবার পরিজন আক্রান্ত হতে পারে। কারণ ভীষণ ছোঁয়াচে এই ভাইরাস।

শতকরা আশিজন এমনিতেই সুস্থ হয়ে যাবেন। ডাক্তার, হাসপাতাল ছোটাছুটি করে পরিবারের অন্য কাউকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেবেন না। আর হাসপাতালের কাউকে ঝুঁকিতে ফেলবেন না।

যদি শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে নির্ধারিত হাসপাতালে ভর্তি হোন। সঠিকভাবে ইতিহাস জানান। কোনো কিছুই গোপন করবেন না। কারণ আপনার সঠিক চিকিৎসার জন্য ইতিহাস জানা জরুরি।

লকডাউন…

ছোঁয়াচে রোগের প্রাদুর্ভাব এড়াতে, মহামারি মোকাবিলা করতে, সংক্রমণ ঠেকাতে প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়িতে নিজেকে এবং পরিবারের সবাইকে আটকে রাখুন। কারণ বাইরে জীবাণু। আপনি বাইরে গেলে জীবাণু আপনার মাধ্যমে আপনার বাসায় প্রবেশের পথ পেয়ে যাবে।

আর আপনার অজান্তেই আপনাকে আর আপনার পরিবারের সবাইকে সংক্রমিত করবে।
নেহায়েত প্রয়োজন হলে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিয়ে একজন জরুরি কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে কাউকে না ছুঁয়ে, কারো সাথে কথা না বলে আগে গোসলঘরে যান। সাবান দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে গোসল করে ফেলুন।কাপড়চোপড় সাবানে ভিজিয়ে রাখুন।

জুতা স্যান্ডেল ব্লিচিং পাউডার পানিতে গুলিয়ে পরিষ্কার করুন। অথবা সাবান পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

লকডাউনে আপনি বাইরে যেতে পারবেন না। আপনার পরিবারের কেউ বাইরে যেতে পারবে না।
এটা জরুরি অবস্থা। জরুরিভাবেই এই সময়টা কাজে লাগান। আপনি ঘরে থাকলেই সুরক্ষিত থাকবেন। ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে আপনাকে লকডাউন মানতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

হাত ধোয়া…

বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। কারণ সামান্য এই হাত ধুয়ে আপনি করোনাভাইরাসকে না বলতে পারেন। অন্ততপক্ষে বিশ সেকেন্ড হাত ধোবেন। হাত ধোয়ার নিয়ম মেনে হাত ধুয়ে নিন।

নাক, মুখ, চোখে হাত দেবেন না। কারণ করোনা ভাইরাসের শরীরে ঢোকার পথ এইগুলো। মুখ, চোখ আর নাক দিয়ে এই ভাইরাস আপনার শরীরে প্রবেশ করে আপনাকে আক্রান্ত করবে।

হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার…

হাঁচি-কাশি দেবার সময় মুখ ঢেকে নিন। টিস্যু ব্যবহারের পর ঢাকনাওয়ালা পাত্রে ফেলে দিন। অবশ্যই হাতের কনুইয়ের মাঝে মুখ রেখে হাঁচি-কাশি দেন। প্রতিবার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

কোভিড-১৯ থেকে বাঁচার উপায় হলো প্রতিরোধ।
প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর নির্ভর করছে আপনি কতটা স্মার্ট।

একে একে হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইনে। ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট সব আক্রান্ত হচ্ছে। পুলিশ, সাংবাদিক, সেনাবাহিনী, ব্যাংকের সবাই আক্রান্ত হচ্ছে।

বিশ্বাস করুন… সময়টা ঘোর আঁধার।

আপনি/ আপনারা আক্রান্ত হলে এরপর চিকিৎসা করার কেউ থাকবে না।
আপনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সিট পাবেন না
সিট পাবেন তো অক্সিজেন পাবেন না
অক্সিজেন পাবেন তো আইসিইউ আর ভেন্টিলেটর পাবেন না।
আমাদের মাত্র ১২০০-১৩০০০ ভেন্টিলেটর আছে। তারমধ্যে সচল, অচল আছে। ৫০০-৬০০ হয়তো এই ষোল কোটি মানুষের জন্য বরাদ্দ।

ভাবুন একবার… প্লিজ ভাবুন।
আপনার প্রতিবেশী, আপনার আত্মীয় স্বজন সবাইকে মোবাইলে জানান। তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করুন। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে কাজ করুন। সবাইকে সচেতন করতে হবে।
সচেতনতা জরুরি। প্রতিরোধ জরুরি।

শুধু নিজে বাঁচলে হবে না, সবাইকে নিয়ে বাঁচতে হবে। নইলে আপনি/আমি কেউ সুরক্ষিত থাকতে পারবো না।কেউ বাঁচতে পারবো না। এখন যার যেটুকু সাধ্য তাই নিয়েই কাজ করতে হবে। বিশ্বাস করুন এটা যুদ্ধাবস্থা।

আমরা কেউ জানি না করোনার ভয়াবহতার কথা। কতটা ক্ষতি করবে করোনা আমাদের।
দোহাই আপনাদের….. আর দেরী নয়। এখনই সময়।
প্রতিটা মুহূর্ত এখন আমাদের কাছে অমূল্য।

মরার আগে মরবার দরকার নেই। আতংকিত না হয়ে বুদ্ধি বিবেচনা জাগাতে হবে। আপনার/আমার এখন সময়োচিত বিচক্ষণতা এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে কাজে লাগানোর সুযোগ হয়তো আছে। আসুন আমরা আমাদের কাজগুলো করি।

আসুন আমরা নিয়ম মেনে করোনাকে ঠেকিয়ে দেই।
সবাই মিলে ‘না’ বলি করোনাকে।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

আমাদের পরিবার

প্রকাশনা সম্পাদক :আব্দুছ ছালাম সবুজ প্রধান সম্পাদক:মোহাম্মদ আজাহারুল হক সম্পাদক:এস, এম, মোমতাজ উদ্দিন যুগ্ম সম্পাদক :রোবেল মাহমুদ বার্তা সম্পাদক:ফরিদুল আলম সজীব মফস্বল সম্পাদক:সারুয়ার ফরাজী নির্বাহী সম্পাদক:আনিন চিপ রিপোটার:লিয়াকত আলী