Home রাজনীতি হঠাৎ করেই উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক ।
রাজনীতি - 2 weeks ago

হঠাৎ করেই উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক ।

ডেস্ক সংবাদঃ

হঠাৎ করেই উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ নভেম্বর। এদিন হাইকোর্টের সামনে বিক্ষোভ করে বিএনপির সমর্থক ‘রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’। এ সময় বিএনপির কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। গাড়ি ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিএনপি কর্মীদের সঙ্গ পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপরই বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যার পাল্টা জবাবও দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে চলছে কথার লড়াই। এতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতির মাঠ। এরই মধ্যে বিএনপি একদফা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। ৫ ডিসেম্বরের পরে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

এদিকে ভাঙচুর অগ্নি সংযোগ জ্বালাও পোড়াওয়ের রাজনীতিকে কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে শক্ত অবস্থানে রয়েছে সরকার। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি যে ধ্বংসাত্নক রাজনীতির পথ থেকে সরে আসেনি এই ঘটনা তার প্রমাণ। সরকার যেকোন মূল্যে সরকারের জানমাল হেফাজতে বদ্ধ পরিকর।

আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করলে সমুচিত জবাব: ‘বিএনপি আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে’ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কদের। তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আন্দোলনের নামে সহিংসতা করলে আমরা জবাব দিয়ে দেব।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, গণতান্ত্রিক পথে করলে রাজনৈতিকভাবে আমরা মোকাবিলা করব। আপনারা যদি মনে করেন সহিংসতা সৃষ্টি করে, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবেন, তাহলে আপনারা বোকার স্বর্গে আছেন।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা সবাই প্রস্তুত হয়ে যান, এখনও ষড়যন্ত্র চলছে, এখনও চক্রান্ত চলছে। শেখ হাসিনার জনপ্রিয় সরকারকে হঠানোর চক্রান্ত চলছে। এ চক্রান্ত রুখতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গে আমরা বারবার বলেছি, আমরা তাকে জেলে নেইনি। আদালতের মামলার রায়ে তিনি জেলে আছেন। আপনারা আইনি লড়াই করে তাকে মুক্ত করুন। আমাদের সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি আদালত মানে না, আইনের শাসন মানে না, বিচার মানে না, সালিশ মানে না। খালেদার মুক্তির জন্য আদালতের ওপর চাপ দিতে সেখানে তারা ভাঙচুর করেছে। সেখানে তারা পুলিশের ওপরে হামলা করেছে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। আদালত প্রঙ্গণকে রণাঙ্গনে পরিণত করেছে। এরা ক্ষমতায় এলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নিরাপদ থাকবে না।

সরকারের বিদায় ঘণ্টা শোনা যাচ্ছে :চারদিকে সরকারের বিদায় ঘণ্টা শোনা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের বিদায় ধ্বনি চারদিকে শোনা যাচ্ছে। ওবায়দুল কাদের সাহেবরাও কথা বলছেন যে আমাদের কাউকে তাড়াতে হবে না, আমরা নিজেরাই ভেগে যাব।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ এখন দুঃস্বপ্ন দেখছে। তারা সব জায়গায় এখন বিএনপিকে দেখতে পায়। হলি আর্টিসান হামলা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, হলি আর্টিসানের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট এজন্য যে, এ রায়ে ভয়ঙ্কর ও ভয়াবহ জঙ্গিবাদ, সেটা যে ধরনেরই হোক। যে জঙ্গিবাদ আজকে মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, তার বিরুদ্ধে একটা রায় হয়েছে, সেই রায়কে আমরা স্বাগত জানিয়েছি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন ডিএনএ টেস্ট হয় চাকরির জন্য! কি টেস্ট? বিএনপি ও জাতীয়তাবাদীর কোন গন্ধ আছে কি-না। হাসছেন আপনারা? এ ঘটনাগুলো আপনারা সবাই জানেন। এজন্য আমাদের সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ৭১ সালে আমরা যে চেতনা নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, সেই চেতনা ছিল গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্রকে এরা (আওয়ামী লীগ) ভাজিডলা করে খেয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করবার সব চক্রান্ত সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

এক দফা আন্দোলনে যাবে বিএনপি : আগামী ৫ ডিসেম্বর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে বিএনপি এক দফা আন্দোলনে যাবে বলে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকাস্থ ভোলা মনপুরা চরফ্যাশন জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অবৈধ সাজা বাতিলের দাবি’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসুর সাবেক নেতা নাজিম উদ্দিন আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা যদি দেখি ৫ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্ত হন নাই। তাহলে বুঝতে হবে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী। তার সরাসরি হস্তক্ষেপে বেগম জিয়া মুক্ত নাও হতে পারেন। আর সেটা হলে, আমি বলতে চাই- ৫ ডিসেম্বরের পরে এদেশে শুধু এক দফার আন্দোলন হবে। তা হবে, শেখ হাসিনা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের আন্দোলন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যে বোর্ড তৈরী করা হয়েছে, সেই মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট চেয়েছেন। আমরা জানি, বিএসএমএমইউ’র প্রশাসন ও চিকিৎসকরাও স্বাধীন নন। তারা সরকারের রক্তচক্ষু…। এরপরও মনে করি, তাদের পেশার প্রতি সুবিচার করে বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা যা, আমি বিশ্বাস করি- যদি আপনাদের এখন পর্যন্ত নীতিবোধ ও পেশাগত সততা থেকে থাকে তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার সঠিক রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে দেবেন। আর সেই রিপোর্টটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আসবে। আর সঠিক রিপোর্ট দিলে আমার বিশ্বাস, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিয়ে আপিল বিভাগের অন্য কোন বিকল্প নাই।

মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের উচ্চ আদালত, আপিল বিভাগ ও বিএসএমএমইউ যদি সুবিচার না পাই, তাহলে এই সরকারের পতন ঘটনা ছাড়া আমাদের কোন বিকল্প নাই। আর এই পতন ঘটিয়েই আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। সেজন্য আজকে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজকে সরকার এদেশের জনগণের স্বার্থে কোনো কিছু করছে না বলেও মন্তব্য করেন খন্দকার মোশাররফ। সূত্রঃ বাংলাদেশ জার্নাল

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

ঢাকা পর্বে দুর্দান্ত খেলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে আছে রাজশাহী রয়্যালস।

খেলা ডেস্কঃ শেষ হয়ে গেলো বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ঢাকা পর্ব। ১১ ডিসেম্বর মাঠে গড়ানো ঢাকা পর্ব&…