Home রাজনীতি যুবলীগের চেয়ারম্যান এবার শেখ মনির ছেলে পরশ।
রাজনীতি - 3 weeks ago

যুবলীগের চেয়ারম্যান এবার শেখ মনির ছেলে পরশ।

ডেস্ক সংবাদঃ

জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন শেখ ফজলে শামস পরশ। নানা অভিযোগে যখন সংগঠনটি প্রশ্নবিদ্ধ, ঠিক সেই সময়ে হারানো গৌরব-ঐতিহ্য পুনোরুদ্ধারে সংগঠটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির জ্যেষ্ঠপুত্র পরশকেই বেছে নেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। যদিও এর আগে কখনো সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না তিনি।

লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা পরশের শিক্ষাগত যোগ্যতা ইর্ষনীয়। ধানমন্ডি সরকারি বালক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ঢাকা কলেজের থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর আবরো উচ্চ শিক্ষা গ্রহনে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। কলোরাডো ইউনিভার্সিটি ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে যুক্ত হন শিক্ষকতায়। শুধু তাই নয়, সাংস্কৃতি চর্চায়ও পিছিয়ে নেই তিনি। গান-বাজনা বা সাংস্কৃতি চর্চা যে তিনি অন্তরে ধারণ করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি ছবি যেন সেটিই নির্দেশ করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে যে নারকিয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিলো, সেই হত্যাযজ্ঞে নিহত হন বাবা শেখ মনি ও মা আরজু মণি। তখন তার বয়স মাত্র ৬ এবং ছোট ভাই তাপসের বয়স ছিলো ৪ বছর। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে তাদেরকে। দীর্ঘ দুই বছর পালিয়ে বেড়ানোর পর ১৯৭৮ সালে তারা ভারতে চলে যায়। ওই সময়গুলিতে তাদের আগলিয়ে রাখেন বঙ্গবন্ধুর বোন এবং তাদের দাদি শেখ আছিয়া বেগম। একই সময়ে চাচা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, ফুপু শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনা শরণার্থী হিসেবে বিদেশে আশ্রয় নেন।

অতীতে যুবলীগের কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে ছ’টি, যার তিনটিতেই প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও তার নিকট আত্নীয়রা নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গড়ে তোলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। তখন সংগঠনটির দায়িত্ব তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ মনিকে। দুই বছরের মাথায় ১৯৭৪ সালে প্রথম কংগ্রেসে নেতাকর্মীরা তাকেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সাথে শেখ মনি নিহতের পর ১৯৭৮ সালে যুবলীগের চেয়ারম্যান হন আমির হোসেন আমু। পরবর্তীতে তৃতীয় কংগ্রেসে মোস্তফা মহসিন মন্টু, চতুর্থ কংগ্রেসে শেখ মনির ছোট ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম, পঞ্চম কংগ্রেসে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ষষ্ঠ কংগ্রেসে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান শেখ মনির ভগ্নিপতি ওমর ফারুক। তবে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওমর ফারুককে সংগঠন থেকে পদচ্যুত করা হয়। সর্বশেষ ৭ম জাতীয় কংগ্রেসে শেখ পরিবারে আরেক সদস্য পরশের হাতেই যুবলীগের দায়িত্ব অর্পন করেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের তারিখ চুড়ান্তের পর আলোচনায় আসেন পরশ। চেয়ারম্যান পদে ছোটভাই সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসের নামের সাথে জোরেশোরে শোনা যেতে থাকে তার নাম। তখনও থেকেছেন আড়ালে। এমনকি গণমাধ্যম কর্মীদের ধরা দেননি তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যুবলীগের সম্মেলন মঞ্চ পরিদর্শনের আগে পরশকে ডেকে নেন তিনি। ওইদিন সন্ধ্যায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সাথে আড্ডায় মেতে ওঠেন তিনি।

শনিবার কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে চাচা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ভাই শেখ ফজলে নূর তাপস, চাচাত ভাই শেখ ফাহিম, শেখ নাঈমসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সম্মেলনস্থলে আসেন পরশ। এসময় তিনি মঞ্চের সামনে অতিথিদের বসার স্থানে আসন গ্রহণ করেন। এরপর যুবলীগ নেতারা তাকে কংগ্রেসর মূল মঞ্চের প্রথম সারিতে বাসান। এর পর দ্বিতীয় অধিবেশনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট মিলানায়তনে উপস্থিত হন তিনি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন মামাতো ভাই বাগেরহাট ২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়। দ্বিতীয় অধিবেশনের মধ্যমনি ছিলেন পরশ। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান পদে তার নাম প্রস্তাব করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম। ঠিক ওই সময়ে সমর্থন জানিয়ে দেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। পরশের নাম প্রস্তাবের পর পুরো অধিবেশনস্থ স্লোগানে মুখরিখ হতে থাকে। এরপর ওই পদে আর কেউই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। ফলে চেয়ারম্যান হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

ঢাকা পর্বে দুর্দান্ত খেলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে আছে রাজশাহী রয়্যালস।

খেলা ডেস্কঃ শেষ হয়ে গেলো বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ঢাকা পর্ব। ১১ ডিসেম্বর মাঠে গড়ানো ঢাকা পর্ব&…