Home খেলাধুলা রোহিতের ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে ২৬ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় ভারত।
খেলাধুলা - 2 weeks ago

রোহিতের ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে ২৬ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় ভারত।

খেলা ডেস্কঃ

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় দুই ওপেনারের সামনে কোন প্রতিরোধই করতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। বাংলাদেশের ১৫৪ রানের মামুলী টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে কোন বোলারকেই পাত্তা দেয়নি রোহিত-ধাওয়ান। দলীয় অধিনায়ক রোহিতের ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে ২৬ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় ভারত। বাংলাদেশ হারে ৮ উইকেটে। এতে সমতায় আসে বাংলাদেশ-ভারত। তবে এখনো সিরিজ জয়ের আশা আছে বাংলাদেশের। আগামী ১০ নভেম্বর নাগপুরে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ভারতকে হারাতে পারলেই সিরিজ জয় হবে টাইগারদের।

আগের ম্যাচে প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পারেননি রোহিত শর্মা। যে কারণে তার দলও জয়ের দেখা পায়নি। বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে যায় ৭ উইকেটে। তবে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন ভারত সেরা এ ওপেনার। বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ১০০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৩ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৮তম ফিফটির ইনিংস খেলেন রোহিত। ১১তম ওভারে বল করতে আসেন টাইগার লেগি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। ওভারের ৫ম বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে শট খেলতে যান শিখর ধাওয়ান। আর এতেই মিস হয়ে যায় ব্যাট-বল; সোজা গিয়ে আঘাত হানে স্ট্যাম্পে। আর এতেই ১১৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ভারতের। আউট হওয়ার আগে ২৭ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলেন শিখর ধাওয়ান।

বোলাদের তুলোধুনো হওয়ার দিনেও বেশ ভালো বোলিং করছিলেন আমিনুল ইসলাম। সেটির পুরস্কারও পেলেন। শিখর ধাওয়ানের পর এই লেগ স্পিনার নিলেন রোহিত শর্মার উইকেটও। উইকেট পাওয়া ডেলিভারিটি অবশ্য দারুণ কিছু ছিল না। অনেকটা শর্ট লেংথেই ছিল বল, তবে নীচু হয়ে যায় খানিকটা। রোহিত পুল খেললেও লাগেনি ব্যাটের ভালো জায়গায়। সীমানায় ক্যাচ নিয়েছেন বদলি ফিল্ডার মোহাম্মদ মিঠুন। নিজের শততম টি-টোয়েন্টিতে রোহিত ফিরলেন ৪৩ বলে ৮৫ রান করে।

শেষদিকে শ্রেয়াস-রাহুলের ব্যাটে ২৬ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছায় ভারত। শ্রেয়াস ২৪ রানে ও রাহুল ৮ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে দুই উইকেট পেয়েছেন লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ। তরুণ ওপেনার মোহাম্মদ নাইম শেখকে সঙ্গে নিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেন লিটন কুমার দাস। উদ্বোধনী জুটিতে ৭.২ ওভারে ৬০ রান সংগ্রহ করেন লিটন-নাইম। ষষ্ঠ ওভারে পান্তের ভুলে বেঁচে যান লিটন দাস। ওয়াশিংটনের বদলে বোলিংয়ে আসেন চাহাল। তার বলে স্টাম্পিংয়ের সুযোগ ছিল পান্তের। কিন্তু স্টাম্পের আগে বল গ্লাভসবন্দী করে স্টাম্প ভাঙাতে বেঁচে যান লিটন। নট আউটের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার, সঙ্গে দেন নো বল। সপ্তম ওভারেও বিদায় নিতে হত লিটনের। বল উড়িয়ে মেরেছিলেন কিন্তু ৩ জন ফিল্ডার মিলেও ক্যাচ নিতে পারেনি ভারতীয়রা। তবে অষ্টম ওভারে সেই পান্তের থ্রোতেই রান আউট হয়ে ফিরে গেছেন লিটন। বিদায় নেন ২৯ রানে।

ওপেনিংয়ে নেমে দুর্দান্ত খেলছিলেন নাঈম শেখ। ভারতীয় বোলারদের হাত খুলে মারছিলেন। তার ব্যাটিংয়ে বোঝার উপায় নেই যে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেছেন। লিটন দাসের সঙ্গে জুটিতে গড়েছেন ৬০ রান। সৌম্যের সঙ্গে করেছেন ২৩ রানের জুটি। দলীয় ৮৩ রানে সুন্দরের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে শ্রেয়াসের তালুবন্দী হয়ে ফিরেন। সাজঘরে ফেরার আগে ৩১ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৬ রান তুলেছেন নাঈম।

চাহালের একই ওভারে আউট হয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকার। প্রথম বলে সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ দেন ৪ রান করা মুশফিক। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা সৌম্য সরকার আজ খেলেন তিন নম্বর পজিশনে। দিল্লি জয়ের ম্যাচে ৩৯ রানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে যাওয়া সৌম্য রাজকোটেও দাপুটে ব্যাটিং করেন। ভারতীয় লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ২০ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ৩০ রান করেন সৌম্য।

দলীয় ১০৩ রানে লিটন,নাইম,মুশফিক আর সৌম্য আউট হওয়ার পর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তরুণ অলরাউন্ডার আফিফ হোসেনের সঙ্গে ১৭ রানের জুটি গড়েন। এরপর মোসাদ্দেক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস শেষ হওয়ার ৯ বল আগে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন রিয়াদ। তার আগে ২১ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৩০ রান করেন তিনি।

শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আর আমিনুল ইসলামরা ঝড় তুলতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৫৩ রান করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

ভারতের পক্ষে সেরা বোলিং ছিল চাহালের। ২৮ রানে নিয়েছেন দুই উইকেট। প্রথম ম্যাচের পর খলনায়কে পরিণত হওয়া খলিল আহমেদ আজকেও ছিলেন খুব বেশি ব্যয়বহুল। ৪ ওভারে একটি উইকেট নিলেও দিয়েছেন ৪৪ রান। একটি করে আরও উইকেট নেন চাহার ও ওয়াশিংটন।

তবে এই হারেও বাংলাদেশের সামনে সুযোগ থাকছে এই সিরিজ জেতার। আগামী ১০ নভেম্বর নাগপুরে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ভারতকে হারাতে পারলেই সিরিজ জয় হবে টাইগারদের।

ভারত এখন পর্যন্ত নিজেদের মাঠে মাত্র চারটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে। ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলো ভারতকে তাদের মাটিতে হারিয়েছে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

খালেদা জিয়া জেল থেকে বাইরে আসুক সরকার চায়না- মির্জা ফখরুল

ডেস্ক সংবাদঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘এই সরকার চায়না…